নতুন এই সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল (Control of Anti-Social Activities Bill) বা চলতি ভাষায় 'গুন্ডা দমন আইন'-এর আওতায় পুলিশ কী কী ক্ষমতা পাচ্ছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
কোন কোন অপরাধ বা ইস্যুতে পুলিশ সরাসরি গ্রেফতার করতে পারবে?
এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো সংগঠিত অপরাধ এবং সমাজের শান্তি বিঘ্নিতকারী চক্রগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। পুলিশ মূলত নিচের ইস্যুগুলোর ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়াই (বা সরাসরি) ব্যবস্থা নিতে পারবে:
সংগঠিত তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ: এলাকায় জোর করে চাদা আদায়, ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া এবং বেআইনি সিন্ডিকেট চালানো।
জমি ও সম্পত্তি দখল: গায়ের জোরে বা অস্ত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট দখল করা কিংবা প্রোমোটিং সংক্রান্ত অশান্তি।
অস্ত্র ও মাদকের চোরাচালান: বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, মজুত, কেনাবেচা এবং নিষিদ্ধ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকা।
নারী ও শিশু পাচার: মানব পাচার চক্র এবং নারীদের ওপর অত্যাচার বা শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অপরাধ।
পেশাদার অপরাধী চক্র (Gangsterism): সুপারি কিলার, গ্যাং লিডার বা যারা ভাড়ায় খাটে এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে এই আইন সরাসরি প্রযোজ্য হবে।
ত্রাস সৃষ্টি ও নিয়মিত অপরাধ: যারা জামিনে ছাড় পেয়ে বারবার একই ধরনের সমাজবিরোধী কাজ করে এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখে।
কী কী সম্পত্তি বা জিনিস বাজেয়াপ্ত হতে পারে?
এই আইনের অন্যতম কঠোর দিক হলো অপরাধীদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে উপার্জিত যেকোনো সম্পত্তি পুলিশ বাজেয়াপ্ত (Seize) করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে:
স্থাবর সম্পত্তি: অপরাধের টাকায় কেনা বা জোরপূর্বক দখল করা জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান বা বাণিজ্যিক ভবন।
অস্থাবর সম্পত্তি ও যানবাহন: অপরাধের কাজে ব্যবহৃত বা অপরাধের টাকায় কেনা গাড়ি, বাইক বা অন্য কোনো বিলাসবহুল জিনিস।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নগদ টাকা: অবৈধ উপায়ে উপার্জিত নগদ অর্থ, সোনা-দানা এবং অপরাধীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Freeze) বা বাজেয়াপ্ত করা যাবে।
অস্ত্র ও বেআইনি সরঞ্জাম: তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া সমস্ত বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা তৈরির মশলা বা অন্যান্য বিপজ্জনক অস্ত্র।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: এই আইনের অধীনে অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার প্রক্রিয়া সাধারণ আইনের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন করা হয়েছে, যাতে অপরাধীরা সহজেই বাইরে এসে আবার অপরাধ ছড়াতে না পারে। পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে এই মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।